চ্যানেল টুয়েন্টিফোর (প্রচার: ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬) ।।

বুদ্ধিজীবী। যারা জগত নিয়ে ভাবেন, সেই ভাবনা ছড়িয়ে দেন মানুষের মাঝে, সম্প্রীতি আর সাম্যের বীজ বুনে যান নির্মোহভাবে। সেই তাগিদ থেকেই নির্দিধায় জীবন দিয়ে এদেশকে স্বাধীন করে গেছেন একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীরা। তাঁদের সেই ত্যাগের চেতনা কতটুকু চর্চা করেন এখনকার বুদ্ধিজীবীরা?

এই প্রশ্নে চিন্তাশীলদের মন্তব্য, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা ছিলো একাত্তরের বুদ্ধিজীবীদের, তা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারছে না বর্তমানরা। বরং, অনেকেই চরম বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলাদলি ও ব্যক্তিস্বার্থে।

একটি রাষ্ট্রের মনন আর চিন্তার জগতের ভিতটা গড়ে তোলেন বুদ্ধিজীবীরা। বাংলাদেশের স্বাধীকার কিংবা স্বাতন্ত্র বোধের সেই সূত্রটা ১৯৭১ সালে ধরে দিয়েছিলেন তারাই সে সময়ের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মশালটা ছিলো যাদের হাতে। গোবিন্দ চন্দ্রদেব, মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, সিরাজুলক হক খান, রাশিদুল হসানা কিংবা ডাক্তার আলিম চৌধুরীরা তো জীবন উৎসর্গই করেছেন ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে শুধু দেশের জন্য। এমন পরম্পরায় স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর কেন এত ভেদাভেদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে। কেনই বা বিভক্তির চরম রেখা দেশের রাজনীতি আর চিন্তাকে বিভক্ত করে রেখেছে।

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতে, অনিয়মের সাথে দফারফায় এমন হাল বুদ্ধিজীবীদের। যাদের অনেকে আজ নিজেকে পরিচয় দেন বিশিষ্টজন হিসেবে।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের মতে, লোভ পেয়ে বসেছে কিছু বুদ্ধিজীবীর মাঝে। ব্যাক্তি স্বার্থের কাছে পরাজিত দেশপ্রেম। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে সমাজে।

৪৫ বছরের বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের কারো পরিচয় শত নাগরিক কিংবা সহস্র নাগরিকের ব্যানারে। কারো মতে আগে গণতন্ত্র, কারো কাছে উন্নয়ন। শিক্ষক,অধ্যাপক, ডাক্তার, উকিল এমন কি বিজ্ঞানীও চলেন রাজনীতির রং লাগিয়ে। ফলে আলোর দিশা দেখছেনা তারা।

তবে আশা ভংগের কারন নেই। যাদের আত্মত্যাগে রঞ্জিত এই বাংলাদেশ নিশ্চই তাদের অনুজরা মুক্তির পথ দেখাবেন বদ্ধ পরিবেশ থেকে উত্তোরনের সে আশাবাদ টুকু জিইয়ে রাখতে চান এই দুই শিক্ষক।

বিএইচ

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন