আদালতে খালেদা

পূূর্বপশ্চিম ডেস্ক।।

জিয়া অরফানেজ এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কয়েক মাসের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। কারাগারে যেতে হলে তাকে ‘সাময়িক’ রাজনীতি থেকেও দূরে থাকতে হতে পারে। সে সময় বিএনপি কার নেতৃত্বে চলবে এ নিয়ে দলের ওপর মহলে চলছে অপ্রকাশ্য আলোচনা।

দলের ‘অন্দরমহল’-এর আলোচনার সূত্র থেকে জানা গেছে, ‘আপদকালীন’ সেই সময় ৩ বা ৫ সদস্যের একটি কমিটিকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, যারা সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে কারো কারো পরামর্শ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নেতৃত্বে ওই কমিটি কাজ করুক। কারণ জিয়া পরিবারের কেউ নেতৃত্বে না থাকলে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিভক্তির আশঙ্কা রয়েছে। তবে জোবাইদা রহমান নেতৃত্বে আসতে ‘আগ্রহী নন’ বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরামর্শ করতে সম্প্রতি বিএনপি সমর্থক এক বুদ্ধিজীবীর বাসায় দলের কয়েকজন নেতা ও থিঙ্কট্যাংকের কয়েক সদস্য বৈঠক করেছেন। সেখানে তিন সদস্যের একটি ‘আপদকালীন’ কমিটি করার পক্ষে মত আসে। জোবাইদা রহমানের প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ কয়েক নেতা বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন।

ওই সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির তিনজন সদস্য, একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন উপদেষ্টা কিংবা প্রভাবশালী একজন যুগ্ম মহাসচিবের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের ‘আপদকালীন’ ওই কমিটি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অবশ্য কেউ কেউ পরমার্শ দিয়েছেন তিন স্তরের কমিটি করতে; যাতে ওই সময় আন্দোলন হলে এবং কেউ গ্রেপ্তার হলে বিকল্প কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করা যায়।

এ ব্যাপারে বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আপদকালীন কারা নেতৃত্বে আসতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বেগম জিয়াও চিন্তা-ভাবনা করছেন। আমরাও আলোচনা করছি। নেতৃত্বে কারা থাকবেন তা ঠিক হচ্ছে। তবে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হবে না এটা নিশ্চিত। এত বড় দলে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য লোকের অভাব হবে না।

দলের নেতারা জানিয়েছেন, কারাগারে যেতে হবে এমন প্রতিকূল বিষয় মাথায় রেখে এখন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন বেগম জিয়া। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদ পূরণ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, জেলা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির তিন শূন্যপদসহ ছাত্রবিষয়ক ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, দুজনকে আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং দুজন বিশেষ সম্পাদক পদে নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত।

জানা গেছে, মধ্য সারির নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়া আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন বেশি। সম্প্রতি কয়েকজনের সঙ্গে তিনি যা বলেছেন, তার মোদ্দা কথা হলো বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতার ওপর তিনি এখন আর আস্থা রাখতে পারছেন না। অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তরুণ ও মধ্য সারির নেতাদের তিনি বলছেন, ‘তোমাদের ওপর আস্থা আছে, আমি কারাগারে গেলে তোমাদের কাজ করতে হবে।’

দলের এক নেতা বলেন, বেগম জিয়ার ধারণা তার দলকে বিভক্ত করতে কয়েকজন নেতা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছেন। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির দুজন নেতাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন তিনি। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে পর্যবেক্ষণ করছেন। কয়েকজনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনাও করবেন।

সাজা হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহে আছেন তার আইনজীবীরা। কারণ রায়ে এমন কিছুও থাকতে পারে, যাতে তিনি রাজনীতিতে সরাসরি থাকতে পারবেন না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দূরদর্শিতা থাকলে সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীকে কারাগারে পাঠাবে না। আর যদি তাকে কারাগারে পাঠানো হয়ই, তার অনুপস্থিতিতে কীভাবে দল চলবে সেই পরিকল্পনা গ্রহণের মতো দূরদর্শিতাও বেগম জিয়ার আছে।

তিনি বলেন, সরকার কিংবা দলের ভেতরে কোনো নেতা যদি ভাবেন, বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হলে দলের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে কিংবা দলে বিভক্তি হতে পারে, তাদের বলব ওয়ান ইলেভেনপরবর্তী সময় থেকে শিক্ষা নিন। তখন শত চেষ্টা করেও বিএনপিকে বিভক্ত করা যায়নি। সবাই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

সূত্র: আমাদের সময়

ইউডি

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন