লেখক: সালেম সুলেরি

সালেম সুলেরি (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)।।

স্মৃতি সতত সুখের, সতত বেদনার। ২০০৪ সাল। কলকাতার দমদমে বিশাল ‘আড্ডা’ অনুষ্ঠান। আয়োজক আরেক বিশাল প্রতিষ্ঠান ‘শ্রীনিকেতন’। মূল উদ্যোক্তা মি. আইচ আর সন্চালক লেখক তরুণকান্তি বারিক। অধুনালুপ্ত ‘উড়োজাহাজ” পত্রিকার সম্পাদক। মন্চে সব বাঘা বাঘা ব্যক্তিত্ব। আমি আমন্ত্রিত বাংলাদেশ’ থেকে। আনন্দবাজার দৈনিকের শেষ পৃষ্ঠায় চোখকাড়া বিজ্ঞাপন। ছাপা হলো আড্ডার’ খ্যাতিমান অতিথিদের পাশে আমার নামও।

সেবার শান্তিনিকেতন বেড়িয়ে সেখানে যোগ দিলাম। সেই শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতা অবধি সঙ্গ পেলাম অগ্রজ কবি পঙ্কজ সাহার। বীরভূম-বোলপুরে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ছিলেন ‘দূরদর্শন’ টিভির। লেখক কল্যাণ মুখার্জীর সন্চালনায় প্রচার করেছিলেন আমার ৫ টি কবিতা। সঙ্গে সাক্ষাতকারও। শান্তিনিকেতনের প্লটবাড়িতে শেষজীবন কাটাচ্ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী-লেখক সোমনাথ হোর। কৈশোরে ‘তেভাগার ডায়রী’ পড়ে ভক্ততালিকায় নাম লিখিয়েছিলাম। ওনার দুর্লভ সাক্ষাতকার গ্রহণের ব্যবস্হাও পঙ্কজ’দা করে দেন। আর রাত ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত শান্তনিকেতনে রবীন্দ্রস্মৃতি (স্হাপনাসমূহসমেত) দেখিয়েছিলেনও তিনি।

সে যাক, চার ঘন্টায় ফিরলাম শান্তিনগর এক্সপ্রেসে। কলকাতায় রেলস্টেশনে অপেক্ষারত গাড়িতে দেখি প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক শংকরলাল ভট্টাচার্য। আড্ডার আতিশয্যে কেটে গেলো প্রায় ৫০ মিনিটের গাড়িপথ। সিলভিয়া প্লাথে’র স্মৃতিপদ্য আর টেড হিউজের সঙ্গে আমার সাহিত্য-আড্ডা বিষয়ে নানাকথা। দমদম পৌছে দেখি এলাহী কারবার। মন্চে তারার আলোর ঝাপি। আমাকে বসানো হলো ঠিক মধ্যিখানে। এ কি, ঠিক বায়ে অভিনেতা তরুণ কুমার, উত্তম কুমারের সহোদর। আর আমার ডানে! কালজয়ী অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়! পৈতৃকবাস বাংলাদেশের বরিশাল, তবে দীর্ঘকাল ধরে যোগাযোগহীন। মহাব্যস্ত মহাভারতের চলচ্চিত্রে, সংস্কৃতি অঙ্গনে। পাশেই কিংবদন্তী খেলোয়াড়-ভাষ্যকার পিকে ব্যানার্জী, সাংবাদিক ও জননী’ সিরিয়ালের লেখক দুলাল ভৌমিক, কবিসম্মেলন সম্পাদক নান্দনিক কবি শ্যামলকান্তি দাশ, জনপ্রিয় পদ্যকার দীপ মুখোপাধ্যায়। আনন্দবাজার গ্রুপের সানন্দা’র কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব শঙ্করলাল ভট্টাচার্যতো আছেনই।যোগ দিলেন সর্বশ্রেণীর দর্শকপ্রিয় অভিনেতা শুভাশিস্। আর প্রধান আতিথ্য নিয়ে মন্চে আসীন কিংবদন্তী কন্ঠশিল্পী সুচিত্রা মিত্র!

সেবার ঐ মহতী আয়োজনে সর্বাধিক অটোগ্রাফ আমিই দিয়েছিলাম। কারণ, ঐ এলাকার ৭০ ভাগ মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে স্হানান্তরিত। আমাকে পেয়ে যেন তারা ঘরের ছেলেকেই নাগালে পেয়েছে। আবেগ আপ্লুত সাতজন নারী আমার হাতে-আঙ্গুলে চুম্বনরেখা আকলো। আমার বক্তব্যের সময় দেখি পিঠে হাত দিয়ে পেছনে দাড়ানো সুচিত্রা দি। মাইকটি নিয়ে বললেন, সালেম ঠিকই বলেছে। ওই বাংলাতেও কম সমাদর পাই না আমি। এতো ভালোবাসা, মনেই হয়না দূরে কোথায়ও এসেছি। নিজের লেখা পড়ে হাততালি শুনতে শুনতে আবার আসন নেই। কানের কাছে মুখ নিয়ে মাধবী’দি মেলে দেন প্রশ্ন।
ওই বাংলায় নাকি আমারও কিছুটা আদর-পরিচিতি আছে? কি বলো? বললাম, তুমিতো দিদি মহাতারকা। সত্যজিতের হাত ধরে তুমিও বিখ্যাত। উত্তম-মাধবী জুটি’র স্মৃতি পাড়ায় পাড়ায়। আরেকবার সময় করে যাও, পরখ করে আসো, ভালোবাসা কাকে বলে! ♦ শুভ জন্মদিন মাধবী’দি।

লেখক: সাংবাদিক

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন