চট্টগ্রাম মহিলা আওয়ামী লীগে বিদ্রোহের আগুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।

নগর মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে হওয়ায় পদবঞ্চিতদের বিদ্রোহের আগুনে পুড়তে শুরু করেছে দলটি।

আজ বুধবার  দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাল্টা কমিটির ঘোষণা দেন গত কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি নমিতা আইচ। পাল্টা কমিটিতে তপতী সেনগুপ্তা, ফেরদৌসি নাজিম ও হাসিনা জাফরকে সহ সভাপতি করা হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু ও বর্তমান কাউন্সিলর আনজুমানা আরা বেগমকে করা হয়েছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মর্জিনা আক্তার লুসি পেয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় দুই দশক পর হওয়া চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাসিনা মহিউদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আনজুমান আরা চৌধুরী আনজি। কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর মমতাজ খান, রওশন আরা ইউসুফ, নূরনাহার মোতালেব, রওশন আরা আমিন, হামিদা রশিদ এবং তপতী সেনগুপ্তা।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন চসিকের কাউন্সিলর নীলু নাগ, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী ও মালেক বেগম। এছাড়া হোসনে আরা বেগম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে নগর মহিলা আওয়ামী লীগে হাসিনা মহিউদ্দিনের বিরোধী একটি অংশ সক্রিয় আছে।  ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সেই অংশ থেকেও দুজন পদ পেয়েছেন। এরা হলেন সহ সভাপতি তপতী সেনগুপ্তা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেখা আলম চৌধুরী। ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে তপতী সেনগুপ্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। পরে হাসিনা মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তিনি বিদ্রোহী হন।

সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আজ সংবাদ সম্মেলনে তপতী বলেন, উনি কে ? হু ইজ শী ? উনার বাসা কোথায় ? উনি কোত্থেকে এসেছেন ?

তপতী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী, যাকে বলা হত চট্টগ্রামের  টাইগার, যার জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি, আজ তার পরিবারের জন্য আমাদের উপর হাত তোলা হয়েছে।  মহিউদ্দিন ভাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন, যে কোনো সময় চলে যাবেন, তাই একজনকে চট্টগ্রামে রেখে যেতে চাচ্ছেন।  এজন্য কি জোর করে তার স্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তপতী সম্মেলন না মানার ঘোষণা দেন। কমিটি না মানার ঘোষণা দেন।  তিনি হাসিনা মহিউদ্দিনের বিভিন্ন অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, এখন বলা হচ্ছে আমি নাকি ৮ বছর ছিলাম না।  ৮ বছর আমি কোথায় ছিলাম? বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে, স্বামী আহত হয়েছে।  তখন আমি দেশ ছেড়ে যাইনি, এখন কেন ইন্ডিয়ায় যাব ?

/এমএমআর/

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন