তিন স্কুলছাত্রের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

বিশ্ব ভালবাসা দিবসে তিস্তা নদীতে নৌকায় ঘুরতে গিয়ে বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়ানের আসামি হলেন ৩ শিক্ষার্থীসহ নৌকার মালিক। নীলফামারীর ডিমলা থানায় ৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়ানের (বিজিবি) পক্ষে তিন শিশু শিক্ষার্থী ও নৌকার মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ ১৯৭৩ এর ১১(১)(ক) ধারায় মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গ্রেফতারের আশংঙ্কায় ওই ৩ শিশু শিক্ষার্থী পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা হলো ডিমলা উপজেলা কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আল আমিন, একই বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র ও গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, কালীগঞ্জ গেনদির চৌপথী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মোস্তফা মন্ডলের ছেলে আমির হোসেন (৯) ও একই গ্রামের নৌকার মাঝি খোকা মিয়া(৫০)।

তাদের বিরুদ্ধে বুধবার রাত ১০টায় কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আলী আজম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন ( মামলা নম্বর৯)। মামলার অভিযোগে বলা হয়, নৌকার মালিকের নিকট নৌকা নিয়ে ওই তিন শিক্ষার্থী তিস্তা নদী হয়ে নৌকাসহ মাছ ধরার জন্য ঝাড়সিংহেশ্বর মৌজার সীমান্ত পিলার ৭৯৪/৬ এস অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ১০০ গজ ভিতরে প্রবেশ করে। যা দেখতে পেয়ে ভারতীয় সীমান্তে টহলরত ১৩ ব্যাটালিয়ানের বিএসএফ তাদের ধাওয়া করলে তারা নৌকা ফেলে পালিয়ে আসে। যা বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ ১৯৭৩এর ১১(১)(ক) অপরাধের শামিল। নৌকাটি বর্তমানে ভারতীয় বিএসএফের নিকট জব্দ রয়েছে।

এদিকে শিশু তিন শিক্ষার্থীসহ নৌকার মালিকের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার এলাকায় তোলপাড় সৃস্টি করে। এলাকার মফেল উদ্দিন, আবু বক্কর, সোলায়মানসহ আরো অনেকে বলেন, আমরা তো এই এলাকার বাসিন্দা। বাপ দাদার আমল হতে এখানে আমাদের বসবাস। সন্তানরা না হয় নৌকাতে ঘুরতে গিয়ে ভুল করেছে। স্থানীয়ভাবে তাদের ডেকে শাসন করা যেতো। কিন্তু সরাসরি শিশুদের নামে বিজিবি মামলা দিবে এটি মেনে নেওয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গেলে খুঁজে বের করা হয় ওই তিন শিক্ষার্থীকে। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব ভালবাসা দিবসে  দুপুরের পর ৩ জনে মিলে তিস্তা নদীতে নৌকায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। নদীতে সীমানা পিলার ও তারকাঁটার বেড়া না থাকার কারণে ভারতের অভ্যন্তরে যে আমরা প্রবেশ করেছি তা বুঝতে পারিনি। যখন ভারতীয় বিএসএস সদস্যরা আমাদের ধাওয়া দেয় তখন বাধ্য হয়ে নৌকা ফেলে পালিয়ে আসি আমরা। এখন আমাদের বিরুদ্ধে বিজিবি ডিমলা থানায় মামলা দেয়ায় পুলিশের ভয়ে আমরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ও মামলা বাদী আলী আজম জানান, ঊর্ধতন
কর্তৃপক্ষের নির্দেশের মামলা দায়ের করেছি। ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মামলা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

/এমএমআর/

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন