হাকালুকি হা্ওর

এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার।।

দারিদ্র্য বিমোচনে হাকালুকি হাওরাঞ্চলকে কর্মএলাকা দেখিয়ে দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রজেক্টগুলো সীমাবদ্ধ থাকে কাগজে-কলমে কর্ম এলাকায় দরিদ্র এবং অতিদরিদ্রদের ভাগ্যের উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাগুলো বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ করে থাকে।কিন্তু মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার হাকালুকি হাওরপাড়ের চিত্র অনেকটা বিপরীত।কর্মরত অনেক সংস্থা প্রজেক্ট কর্মপরিকল্পনায় হাওর এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও হাওর পাড়ের সার্বিক স্যানিটেশন অবস্থা খুবই নাজুক।এখানকার জেলে ও দরিদ্ররা হচ্ছে হতদরিদ্র।আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মরত কিছু এনজিও সংস্থাগুলো লুটে নিচ্ছে অধিক ফায়দা।দারিদ্র্য বিমোচন, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু রোধে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি দু-একটি ছাড়া বেশিরভাগ এনজিও সংস্থা কাজের নামে শুধু অবহিতকরণ সভা-সমাবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।শেষ করে হাওর পাড়ের জেলেদের নিয়ে এনজিওগুলো খেলছে পুতুল খেলা।

বাস্তবতায় এদের ভাগ্যে কোনো উন্নতি হচ্ছে না।বরং এনজিওদের কাজ তাদের জন্য আশির্বাদ না-হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মাতৃমৃত্যু, শিশুদের পুষ্টিহীনতা, বিশুদ্ধ পানীয়জল, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানাসহ সার্বিক স্যানিটেশন ও অসচেতনতার ফাঁদে বছরের পর বছর থাকতে হচ্ছে হাকালুকির হাওর পাড়ের সাধারণ মানুষ। দাতা সংস্থাগুলোর কাছে প্রজেক্ট দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও তা দেখার কেউ নেই।মাঝে মধ্যে নেতৃস্থানীয়দের নিয়ে শুধু প্রজেক্ট অবহিতকরণ সভা কিংবা কর্মশালার আয়োজন করা হয়।কাজ সভা-সমাবেশের গণ্ডি পার হয় না।এখানেই সীমাবদ্ধ থাকে।যার ফলে কর্মপকিল্পনার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কাজের মিল নেই।এতে বছরের পর বছর কর্মকাণ্ড চালালেও হচ্ছে না দারিদ্র্য বিমোচন কিংবা কোনো ধরনের পরিবর্তন।ফলে এসব এলাকায় বাড়ছে মাতৃমৃত্যু ও বিভিন্ন ধরনের রোগ।সম্প্রতি হাকালুকি হাওরপাড় কুলাউড়ার সাদিপুর এলাকায় হাম-রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু ও আতঙ্কে শতাধিক পরিবার থাকলেও ঐ এলাকাবাসীর অভিযোগ এনজিও সংস্থার লোকজন কোনো ধরনের পরামর্শ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

তাদের অভিযোগ- কাজ না করলেও কারো কাছে এনজিও সংস্থাগুলোর কোনো জবাবদিহিতা করা লাগে না।এমনকি তাদের কোনো দায়বদ্ধতাও নেই।প্রজেক্ট জায়েজ করার জন্য কেবলমাত্র লোক দেখানোর কাজ করা হয়।পরিবেশ নিয়ে বড় বড় সংস্থাগুলো কাজ দেখালেও পরিবর্তনের ছোঁয়া চোখে পড়ে না কোথাও।শুধুমাত্র নির্ধারিত কিছু স্থানে সভা-সেমিনার ও দু-একজন সংবাদকর্মী নিয়ে দায়সারা কাজ করে ফটোসেশন ও পেপার কাটিংয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে তাদের কর্মকাণ্ড।

সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সিএনআরএস-এর আয়োজনে সূচনা প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান- সূচনা হচ্ছে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মা ও শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে একটি সমন্বিত পুষ্টি বিষয়ক কর্মসূচি।সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় অতি দরিদ্র পরিবারে মা ও শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বতার হার ৩ বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৬% পরিমাণে কমিয়ে আনার লক্ষ্য হচ্ছে সূচনার।বিডিএইসএস-২০১৪ সালের জরিপ অনুসারে- ২০১১ হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫ বছর বয়সী নিচে শিশুদের খর্বাকৃতি হার ৫১% থেকে ৩৬% হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, সিলেটে এ হার ৪৯.৬% যা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। সূচনা প্রকল্প কুলাউড়া উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ২০১৭ সালে বরমচাল, টিলাগাঁও, পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নে, ২০১৮ সালে ভাটেরা, কাদিপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নে, ২০১৯ সালে কুলাউড়া সদর, ব্রাহ্মণবাজার ও রাউৎগাঁও ইউনিয়নে এবং ২০২০ সালে ভূকশিমইল, জয়চণ্ডী ও হাজীপুরসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়।

জেবি

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন