উচ্চ আদালতে উপেক্ষিত বাংলা ভাষা

আলমগীর হোসেন।।

উচ্চ আদালতের রায় সঠিকভাবে বুঝতে ২০১৫ সালে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। রায়টি বাংলায় অনুবাদ করতে তিনি হাইকোর্টের এক আইনজীবীকে ১০ হাজার টাকা ফি দেন। উচ্চ আদালতে প্রায়ই  এরকম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।

বিচারপতিরা পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেন সেই রায় বোঝার শক্তি আমাদের দেশের বেশীরভাগ নাগরিকের নেই। রায় বোঝার জন্য ফি দিয়ে কোনো আইনজীবীর কাছে অনুবাদ করে মর্ম উদ্ধার করতে হচ্ছে।

এছাড়া হাইকোর্ট দায়রা আদালতের প্রদত্ত রায়ের পর্যালোচনায় যখন মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন, তখন ক্ষতিগ্রস্ত বা লাভবান পক্ষ, আসামি বা বাদী যেই হোন, তিনি ইংরেজি ভাষার কারণে প্রকাশিত রায় বুঝতে পারেন না, জানতে পারেন না কী কারণে এবং কিসের ভিত্তিতে তার দণ্ডাদেশ বহাল থাকল বা খালাস হলো। এতে বিচারপ্রার্থীদের পড়তে হয় বিভ্রান্তিতে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডার ও দৈনন্দিন কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) বাংলায় তৈরি করা হয়। উচ্চ আদালতের দাফতরিক অনেক কাজ বাংলায় সম্পাদন করা হয়। কিন্তু রায় বা আদেশ দেওয়া হয় ইংরেজিতে। আদালতের বেঞ্চ কর্মকর্তারা মামলার নম্বর ধরে ইংরেজিতে ডাক দেন।

আইনজীবীদের অভিযোগ, সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হলেও উচ্চ আদালতে তা উপেক্ষিত। দেশের আইনসভা বাংলায় চললেও উচ্চ আদালতে চলছে ইংরেজির ব্যবহার। তারা প্রশ্ন করেন, কেন আমরা সর্বোচ্চ আদালতে ভিনদেশি ভাষা ব্যবহার করছি? বাংলায় মামলা দায়ের, শুনানি করা, আদেশ ও রায় দেওয়া হলে বিচারপতি, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী সবাই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে বিচারপ্রার্থীরা রায় সম্পর্কে বুঝতে পারবেন।

সংবিধানে আছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাংলা ভাষা প্রচলনে আইনও আছে। সুপ্রিম কোর্ট রুলসেও ভাষা হিসেবে প্রথমে ‘বাংলা’ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের ভাষা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন নেই। এর প্রতিকার চেয়ে কেউ কেউ আদালতে যান। আদালত আদেশ দিলেও এর বাস্তবায়ন এগোয়নি।

আইনজ্ঞদের মতে, দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা সংশোধন না হওয়ায় উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বেশ কিছু দেওয়ানি বিষয়ের আবেদনপত্র নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ১৯৯১ সালের ৮ নভেম্বরে হাইকোর্ট একটি রায় দেন। ওই রায়ে বলা হয়, দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারার ১ উপধারা মতে, আদালতে ইংরেজির ব্যবহার- যথা রায়, আরজি, সওয়াল-জবাব ইত্যাদি লেখা হলে তা বেআইনি হবে না। কাজেই বাংলা ভাষা প্রচলন আইন প্রণীত হওয়ার আগে আদালতে যেমন ইংরেজি ভাষায় আরজি, সওয়াল-জবাব, দরখাস্ত, রায় লেখা হতো, তেমনটি চলতে পারে।

ওই রায়ে ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। বলা হয় ভাষার তিনটি ব্যবহার। এগুলো হচ্ছে- রাষ্ট্রভাষা, সরকারের ভাষা ও আদালতের ভাষা। রাষ্ট্রভাষার অর্থ, যে ভাষা রাষ্ট্রের সব কাজে ব্যবহৃত হয়। সরকারের ভাষা হলো, নির্বাহী কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভাষা ও আদালতের ভাষা বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভাষা। হাইকোর্টের এ রায়ের পর আর নিম্ন আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

সাংবিধানিক বিধানাবলি পূর্ণরূপে কার্যকর করে বাংলাদেশের অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইনও প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের ৪ ধারায় আইনটি কার্যকর করার জন্য সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে উল্লেখ আছে। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিধি প্রণয়ন করেনি, যা বাংলা ভাষা ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে। আইনের এসব সীমাবদ্ধতার কারণে আইনটি যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না।

এ আইনের ১৯৮৭ সালের আইনটির ২ ও ৩ (১) ধারায় বলা আছে, কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। ৩ ধারায় বলা আছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ আইন অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসদাচরণের সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি।

এদিকে উচ্চ আদালতে কয়েকজন বিচারপতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলায় কিছু রায় দিলেও তা খুবই কম। অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান, বিচারপতি এম আমীরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী এবাদুল হক হাইকোর্টে কয়েকটি রায় বাংলায় দিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে উচ্চ আদালতের কয়েকজন বিচারক বাংলায় রায় লেখার উদ্যোগ গ্রহণ ও কার্যকর করেছিলেন। এরপর ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে কোনো মামলায় বাংলা ভাষায় রায় প্রদান করা হয়নি। ২০০৭ সাল থেকে পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও রিট মামলায় বাংলায় কয়েকটি রায় দেওয়া হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০০৭ সাল থেকে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনিই প্রায় ২০০ রায় বাংলা ভাষায় প্রদান করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলিত না থাকার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত বেঞ্চ কর্মকর্তারা বিচারকদের ডিরেকশন বাংলায় সহজে লিখতে পারে না। দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষায় আইনের তেমন প্রতিশব্দ না থাকা। তৃতীয়ত, ইংরেজি ভাষায় রায় লেখা দীর্ঘদিনের প্রচলন ও চতুর্থত, আইনের সব ভাষ্যই ইংরেজিতে।

এ ছাড়া এ বিষয়ে আরো একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, ইংরেজিতে লেখা আইনগুলো ভাষান্তর না হওয়া। রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ৭৫০টি আইনের মধ্যে গত এক যুগে বছরে মাত্র ৯৭টি আইন বাংলায় ভাষান্তর হয়েছে। উল্লেখ্য, সশস্ত্র বাহিনীর ৪০টিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৬৫টি আইন এখন বাংলায় রূপান্তরের কাজ চলছে। ২০০৭ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ কোডে ১৮৩৬ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ২৬ খণ্ড এবং ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১২ খণ্ডসহ মোট ৯৫৫টি আইনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৬ খণ্ডের ৭৫০টি আইন ইংরেজি ভাষায় লেখা।

জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার আইনজীবীর মধ্যে দু’জন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আবু ইয়াহিয়া দুলাল, উচ্চ আদালতে বাংলায় মামলা দায়ের ও শুনানি করছেন; কিন্তু তারা আদালতের রায় বা আদেশের কপি পান ইংরেজিতে।

সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন বিষয়ে এবং বেতার ও দূরদর্শনে বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ ও দূষণ রোধে হাইকোর্টের রুলসহ নির্দেশনা রয়েছে। দুটি নির্দেশনাই এসেছে ফেব্রুয়ারি মাসে। একটি ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, অন্যটি ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। একটি ক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, অন্যটিতে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলায় আদেশ দেন হাইকোর্টের পৃথকদুটিবেঞ্চ।

২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে উপসম্পাদকীয়তে ‘ভাষাদূষণ নদীদূষণের মতোই বিধ্বংসী’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব রকিব উদ্দিন আহমেদ নিবন্ধটি পরদিন আদালতের নজরে আনেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশদেন।আদেশে বেতার ও দূরদর্শনে বিকৃত উচ্চারণ, ভাষা ব্যঙ্গ ও দূষণ করে অনুষ্ঠান প্রচার না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুলে বাংলা ভাষার দূষণ ও বিকৃতি রোধে কেন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়াসহ কয়েকটি বিষয়ে রুল দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, সঠিক শব্দচয়ন, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে বলা হয়। ওই রুল নিষ্পত্তি হয়নি।পরে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ওই বছরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেয়। কমিটির সুপারিশে বলা হয়, হিন্দি চ্যানেলের ছড়াছড়ি বাংলা ভাষার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এটি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

দুই বছর পর  সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদ এবং বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭-এর ৩ ধারা অনুসারে সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে (বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত) চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সাওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ আইনটি পাস হয়। কিন্তু ২৬ বছরেও আইনটি অনুসরণ করা হচ্ছে না।শুনানি নিয়ে আদালত ১৭ ফেব্রুয়ারি রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বর প্লেট, সরকারি দপ্তরের নামফলক (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) এবং গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হলো। রুলে সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ, আইন, স্বরাষ্ট্র, সংস্কৃতি, তথ্য ও শিক্ষাসচিবকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। কিন্ত আদালত আদেশ দিলেও এর বাস্তবায়ন এগোয়নি।

এ প্রসঙ্গে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতগুলোতে বাংলায় রায় পড়ার কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। প্রধান বিচারপতি চাইলে বাংলায় রায় পড়ার বিষয়ে কোনো বাধা থাকবে না।

রাষ্ট্রের সবোর্চ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সর্বক্ষেত্রে পুরোপুরি বাংলা ভাষা চালু করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ বাংলা ভাষার কদর বুঝেন, কিন্ত আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষ আছেন যারা ছেলে মেয়েকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে চান। বিয়ের কার্ড ইংরেজিতে ছাপানো পছন্দ করেন। এ রকম মনমানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আইনের পুস্তক রয়েছে সেগুলো রচিত হয়েছে ইংরেজিতে। ১৯৮৬ সাল থেকে বেশকিছু আইনের বই বাংলায় প্রণয়ন হচ্ছে কাজেই এটার প্রসার হবে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকটে আব্দুল বাসতে মজুমদার বলেন, সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন হোক সেটা আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি। তবে তা এক দিনে প্রতিষ্ঠিত হবেনা, এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, আইনের সব ভাষ্যই ইংরেজিতে। বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, ইংরেজিতে লেখা আইনগুলো ভাষান্তর না হওয়া।

তবে সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমীর উল ইসলাম বলেন, যে দেশের যুবকরা ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই শহীদদের সম্মানার্থে এবং জাতীয় অগ্রগতির জন্য হাইকোর্টের রুলস পরিবর্তন করে বাংলায় মুসাবিদা ও সওয়াল-জবাব করার সুযোগ দেওয়া উচিত।তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের সর্বক্ষেত্রে বাংলার প্রচলন অসম্ভব কিছু নয়,মানসিকতার পরিবর্তন হলেই কেবল এটা সম্ভব।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মো. সাজাওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতে অবশ্যই বাংলা চালু করা উচিত। আমাদের যে আইনের পুস্তক রয়েছে সেগুলো রচিত হয়েছে ইংরেজিতে। ইংরেজি ‘ল’ গুলো ভাষান্তর করা দরকার।

একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে হাইকোর্ট বারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু তখন বাংলায় রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার সেই নির্দেশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা ভাষা শহীদদের জন্য মায়াকান্না কাঁদি। ফেব্রুয়ারি চলে গেলে রীতিমতো ‘ইংরেজি-প্রেমিক’ বনে যাই।

এএইচ/

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন