পণ্যবাহী জাহাজ কলকাতা থেকে সরাসরি পানগাঁওয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধ।।

কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে প্রথমবারের মতো ভিড়লো ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ। শুক্রবার কলকাতা থেকে আসা সোনারতরী সার্ভিসের পণ্য খালাসের উদ্বোধন করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। এর ফলে পানগাঁওয়ে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় সই হয় ‘কোস্টাল শিপিং এগ্রিমেন্ট’। এই চুক্তি ফলে সমুদ্র ও নৌ-পথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। এই চুক্তির আওতায় এই পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হলো পানগাঁওয়ে।পণ্যবাহী জাহাজ কলকাতা থেকে সরাসরি পানগাঁওয়ে

কলকাতা থেকে পানগাঁও আসা প্রথম জাহাজে করে এসেছে মোট ৬৫টি কন্টেইনার। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো এবং রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে নৌপথে পণ্য সরবরাহ সহজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর চালু হয় ঢাকার অদূরে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল। এখানে একসঙ্গে দুটি জাহাজ তীরে ভিড়তে পারে। এখানে জেটির দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আপাতত কলকাতা বন্দর থেকে প্রতিমাসে তিনবার পণ্য নিয়ে পানগাঁও ভিড়বে জাহাজ। বাংলাদেশ থেকেও ভারতে পণ্য রপ্তানির জন্য এই বন্দর প্রস্তুত বলেও জানানো হয়। এ জন্য সেখানে কাস্টমসসহ ব্যাংকিং সব ধরনের সুবিধাই আছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কলকাতা থেকে পানগাঁও টার্মিনালে জাহাজ আসলে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, বাঁচবে সময়। তিনি বলেন, কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বা অন্য কোনো বন্দর দিয়ে পণ্য ঢাকায় আসলে সময় লাগতো ১২ থেকে ১৫ দিন। এখন সেটি আড়াই থেকে তিন দিন লাগবে।পণ্যবাহী জাহাজ কলকাতা থেকে সরাসরি পানগাঁওয়ে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, অতীতে এ বন্দরটি সাইনবোর্ড ছাড়া কিছুই ছিল না। এ বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম চালু হওয়ায় শুধু কেরানীগঞ্জবাসীই নয়, ব্যবসায়ীসহ সারাদেশের মানুষ উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ প্রমুখ।

 

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন