ফেনীতে ইজতেমায় (2)

ফেনী প্রতিনিধি।।

শহরতলীর দেবীপুরে তাবলিগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমায় সমবেত হয়েছেন দেশি-বিদেশি লাখো মুসল্লি।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগেই ময়দান পরিণত হয় জনসমুদ্রে।সারিবদ্ধ হয়ে নামাজে অংশ নেন মুসল্লিরা। এর আগে ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমা। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা শেষ হবে কাল শনিবার।

জুমার নামাজের ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদ খতিব ও আহলে শূরা হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। শুক্রবার ইজতেমায় ফেনীর ইতিহাসে সর্ব বৃহৎ জুমার জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

জুমার নামাযের পর নেদারল্যান্ডের মুরব্বীর আমবয়ান উর্দুতে হলেও তা বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিরা পর্যায়ক্রমে ইমান, আমল, আখলাকসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করবেন।

ইজতেমার জেলার জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা ময়দানের ১১টি খিত্তায় (স্থানওয়ারি অবস্থান) করছেন। রাখা হয়েছে পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সেবাসহ আবশ্যকীয় সব ধরনের ব্যবস্থা। নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ফেনীর ইতিহাসে সর্ব বৃহৎ জুমার জামাতে নামাজ আদায় করার জন্যে সকাল ১০টা থেকে দুর দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করে। কেউ কেউ গাড়িতে করে আসেন আবার কেউবা পায়ে হেঁটে।লক্ষ ছিল একটাই বৃহৎ জামাতে একসাথে জুমআর নামাজ আদায় করা।

ইজতেমার ১০টি প্রবেশ দ্বার দিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে জুমার জামাতে যোগ দেন। ইজতেমা মাঠের আশপাশের মসজিদগুলোতে জুমার নামাজ পড়ানো হলেও মাঠে সমবেত মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায়ের চেষ্টা ছিল সবারই।

জুমার নামাজের সময় ইজতেমার মূল ময়দান ছাড়িয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এর আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদ এর খতিব ও আহলে শূরা হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। আয়োজকদের দাবি ২ লক্ষাধিক মানুষ একসাথে জুমার নামাজ আদায় করেন।

যাঁরা নামাজ আদায়ের জন্য মূল মাঠে পৌঁছাতে পারেননি, তাঁরা রাস্তার ওপরে, খবরের কাগজ, পলিথিন, চাটাই বিছিয়ে যে যেভাবে পেরেছেন নামাজে অংশ নিয়েছেন।

ফেনীর মোটবী থেকে ইজতেমায় আসা ষার্টোর্ধ গোলাম মোস্তফা জানান, ফেনীর ইতিহাসে এতো বড় জামায়াত আর অনুষ্ঠিত হয়নি।সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী সদর উপজেলার লস্করহাটের জামেয়া রশিদিয়া মাদ্রাসায় লক্ষাধিক লোকের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই জামায়াতে তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করে।

অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন নামের এক মুসল্লি জানান, শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়াতে এক ঐতিহাসিক জুমার জামায়াতে অংশ নেয়ার জন্য এখানে এসেছি। এতো বড় জামায়াতে আর কোনদিন নামাজ পড়িনি। তাই আজ নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।

ফেনীর ইজতেমায় ১২টি দেশের ৫২ জন বিদেশি মেহমান উপস্থিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় ৭ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬ জন, ফিলিপাইনের ৩ জন, ওমানের ১জন, তিউনেশিয়ার ১ জন, থাইল্যাণ্ডের ৭ জন, সুদানের ৬ জন, ফিলিস্থিনের ২ জন, মালোয়েশিয়ার ৫ জন, মরক্কোর ১২ জন, সিরিয়ার ১জন, নেদারল্যান্ডের ১ জন অধিবাসী উপস্থিত হয়েছেন।

ইজতেমায় বিদেশি খিত্তার প্রধান ইমন উল হক জানান, আরো কয়েকটি দেশের মুসল্লিদের যোগদানের কথা রয়েছে। বিদেশি অবস্থানের জন্য সর্বাধিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তাসহ সার্বক্ষণিক তদারকী করছেন প্রশাসন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ফেনীর শর্শদী ইউনিয়নের দেবীপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে শুরু হয়েছে ফেনী জেলা ইজতেমা। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা শেষ হবে কাল শনিবার।

জেআই/

কোন মন্তব্য নেই

মতামত দিন