• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

কলকাতা-খুলনা রুটের মৈত্রীর এক্সপ্রেসের চাকা গড়াবে ৩ জুলাই

প্রকাশ:  ১৮ জুন ২০১৭, ২১:০৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রায় ৫২ বছর পর আসছে ৩ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফের চলবে কলকাতা-খুলনা রুটের যাত্রীবাহী ট্রেন। সেদিন মৈত্রী এক্সপ্রেসের চাকা গড়াবে ইস্পাতের লাইনে।

আপাতত সপ্তাহে মাত্র একদিন বৃহস্পতিবার উভয় দিক থেকে দুটি ট্রেন কলকাতা ও খুলনার মধ্যে আসা-যাওয়া করবে। যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সপ্তাহে আরও দিন বাড়ানো হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত বৃহস্পতিবার একদিনই থাকবে এই রুটে মৈত্রীর চলাচল।

কলকাতা-খুলনার মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে এসি কেবিন ৮ ডলার এবং চেয়ার কার ৫ ডলার।

রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেন ভারতের পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা রবি মহাপাত্র। এই রুটে সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রোববার দুপুরে পেট্রাপোল সীমান্ত পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তারা সবকিছু দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আগামী ৩ জুলাই থেকে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেন।

ভারতের প্রান্তিক স্টেশন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার পেট্রাপোল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে আসা ট্রেনের প্রথম স্টেশনও পড়বে পেট্রাপোল।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা রবি মহাপাত্র এদিন আরও জানান, চূড়ান্ত প্রস্তুতি দেখে খুশি পূর্ব রেলের হরিন্দ্র রাওয়ের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দল। ওই দলে শিয়ালদহের ডিভিশনাল ম্যানেজার বাসুদেব পান্ডাও ছিলেন।

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে কলকাতা-খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী এই ট্রেন চালানো হয়। ওই দিন খুলনা থেকেও একটি ট্রেন ছেড়ে আসে কলকাতায়।

উল্লেখ্য, খুলনা-কলকাতার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবার সেই পথেই নতুন করে চলবে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২।

পূর্ব রেল সূত্র জানায়, গত ২৩ মে কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মৈত্রী চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, চারটি চেয়ার কোচ এবং চারটি স্লিপার কোচসহ সব মিলিয়ে মৈত্রীতে ১০টি এসি কোচ থাকবে।

সিডিউল অনুযায়ী প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে কলকাতা স্টেশন থেকে ছেড়ে ট্রেনটি বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে যশোর দিয়ে বেলা ১১টার দিকে খুলনা পৌঁছাবে। পেট্রাপোল-বেনাপোলেই অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের কাজ হবে। ওই দিনই বেলা ২টায় ট্রেনটি খুলনা থেকে ফের যাত্রী নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসবে।