• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

'সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকেই একমাত্র আরাধ্য ভাবা কুসংস্কার'

প্রকাশ:  ১৭ জুন ২০১৭, ১৭:৪৫ | আপডেট : ১৭ জুন ২০১৭, ১৭:৪৭
ঢাবি প্রতিনিধি।।

সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকেই একমাত্র আরাধ্য ভাবা রীতিমত কুসংস্কার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন। তিনি বলেছেন,  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অদক্ষ পেশাজীবী বের হলে শুধু সমাজ নয়, জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নতুন প্রজন্ম। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির প্রলোভন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সাথে মনে রাখতে হবে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনই সব কিছু নয়। সর্বোচ্চ সিজিপিএকে একমাত্র আরাধ্য ভাবা রীতিমত কুসংস্কার।

শনিবার (১৭ জুন) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে সিনেটের চেয়ারম্যান হিসেবে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, বিশ্বের বহু জাতি নিজেদের মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। নোবেল পুরস্কারে তারাই ভূষিত হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের শিক্ষক সমাজ মাতৃভাষায় জ্ঞান পরিবেশনে কুণ্ঠাবোধ করেন। অনেকে পরিভাষার ধুয়া তুলে দায় এড়িয়ে যান। অথচ বিজ্ঞানের শিক্ষকরাই নিজ নিজ বিষয়ে উপযুক্ত পরিভাষা তৈরি করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বাংলা ভাষার মাধ্যমে যারা বিজ্ঞান চর্চায় ভয় পান, তারা হয় বিজ্ঞান বোঝেন না অথবা বাংলা ভাষা জানেন না।’ তাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই বাংলা ভাষা শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তার অভিভাষণে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোন অবস্থাতেই বাণিজ্য কেন্দ্র নয়। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য। যেকোন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।  তাই উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

উপাচার্যের অভিভাষণের পর ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য ৬৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়। অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীনসহ সিনেট সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

এমএসআই/