• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

সিপিডি বাজেট সংলাপে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বেকার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না কেন?

প্রকাশ:  ১৭ জুন ২০১৭, ২১:২৫ | আপডেট : ১৭ জুন ২০১৭, ২১:৪০
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের প্রবৃদ্ধিকে 'তুলনামূলক কর্মহীন' উল্লেখ করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আমরা তুলনামূলক কর্মহীন প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি । প্রবৃদ্ধি এতো বাড়লেও কেন বেকার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।’

তিনি বলেন,  ‘বাংলাদেশে যদি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ বা ৭ শতাংশের বেশি হয় তারপরও সমস্যা কোথায়? সমস্যাটা হচ্ছে, দেশে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ ওই প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করতে পারছে না। এখানে সমস্যা হচ্ছে, এ প্রবৃদ্ধির ভিতরে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ যতটুকু আসা দরকার ছিল সেটা আসে নাই। এটা বড় কাঠামোগত সমস্যা।’

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত বাজেট নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাজেট নিয়ে সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান।

নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির মতে, সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট-সেবা, রেস্তোরাঁ, ব্র্যান্ডের পোশাক কিনতে খরচ বাড়তে পারে। আমদানি পর্যায়ে জ্বালানি তেল, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের আমদানি ব্যয় বাড়বে; যা ভোক্তার ওপর পড়বে। এ ছাড়া আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে সাবান, টুথপেস্ট, বোতলজাত পানি, হলুদ, মরিচ, আসবাব, লোহাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

ড. দেবপ্রিয় আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে যতটা সংখ্যার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে, ঠিক ততটুকু গুণমানের দিকে নজর দেওয়া হয়নি। প্রতিটি বিনিয়োগ কতটুকু সুবিধা নিয়ে আসতে পারে সে বিষয়ে কাঠামোগত চিন্তাভাবনা বা প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করাতে পারিনি।’

তিনি  বলেন, ‘পুরো বাজেট কাঠামোতে গুণমানসম্পন্ন প্রকল্প ও বিনিয়োগ ইত্যাদি রেখে এর বাস্তবায়ন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ দরকার। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসনসহ অন্যান্য সেক্টরে সহায়ক পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়নি। মূল মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে বাজেট প্রণয়ন ও বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব। বাজেটে নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রযুক্তিগতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সক্ষম রূপে দেখিনি। এক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও সেরকম সংস্কার দেখিনি।’

প্রধান মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা ছাড়া বাজেট প্রণয়ন ও বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংলাপে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি ভ্যাটের প্রয়োজনীয়তা আছে। দেশের উন্নয়নে ভ্যাট দরকার আছে। তবে দেশের সুশাসন ও গণতন্ত্র না থাকলে যতই অর্থ থাকুক না কেন সেটা দেশের কাজে আসবে না।’

তিনি বিড়ি-সিগারেটের ওপর করে হার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে কম সিগারেটের দাম ১৫ টাকা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ যে টাকা দিয়ে একটা মানুষ পাউরুটি ও চা খেতে পারে। এতে সরকার বড় ধরনের রাজস্ব পেতে পারে।’

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‌‘বর্তমান সরকার মানবসম্পদে বিনিয়োগ না করে মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের সুবিধা হলো ৮ হাজার কোটি টাকা পদ্মা সেতু ২৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে। এটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়; দুর্নীতিকেও উৎসাহিত করে।’

সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কিমিটির সভাপতি ড. আবদুল রাজ্জাক ও সিপিডির চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান প্রমুখ।