• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

বিনা ফিতে আইনী সহায়তা দিয়েছেন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

জুলাই থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন সেই ঢাবি অধ্যাপক রিয়াজ

প্রকাশ:  ১৮ জুন ২০১৭, ১৫:৩৮ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৭, ১৫:৫৫
সাইফুল ইসলাম খান, ঢাবি।।

শ্রেণিকক্ষে অশ্লীল চিত্র প্রদর্শনের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রিয়াজুল হক কাজে যোগ দিয়েছেন। ঈদের ছুটি ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে শ্রেণিকক্ষেও ফিরবেন তিনি। অধ্যাপক রিয়াজের বাহিস্কারাদেশ কাটাতে বিনা ফিতে জটিল আইনী সহায়তা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সিনেট অধিবেশনে অধ্যাপক রিয়াজুল হকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে অশ্লীল চিত্র প্রদর্শনের অভিযোগ এনে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিস্কারের বিষয়ে অধ্যাপক রিয়াজুলকে কিছুই জানানো হয়নি বলে সেসময় গণমাধ্যমের কাছে দাবী করেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে তিনি তার বহিস্কারের বিষয়ে জেনেছেন বলে জানান।  পরে ৭ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে রিয়াজুলকে বহিস্কারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় প্রশাসন। তবে সেই চিঠিতে ঠিক কি কারণে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে তার কোন উল্লেখ ছিল না। কোন ধরনের শোকজ না করে অধ্যাপক বহিস্কারের ঘটনায় তোপের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এ ঘটনার পরপরই মার্চের প্রথম সপ্তাহে পূর্বপশ্চিমে ‘অধ্যাপক বহিস্কারের নেপথ্যে চেয়ারম্যান পদ ও নোংরামি’ শিরনামে একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে অধ্যাপক রিয়াজুল তার বহিস্কারের পিছনে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু ইউসুফের  ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন। আর ষড়যন্ত্রের কারণ হিসেবে তিনি জানান, পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে যাতে অধ্যাপক রিয়াজুল নির্বাচিত না হয়ে তার(আবু ইউসুফের) অনুগত কাউকে নির্বাচিত করতে পারেন। 

সাময়িক বহিস্কারের পর থেকে গত মার্চ মাস থেকে অধ্যাপক রিয়াজুল জীবন ধারণের জন্য নামে মাত্র বেতন পেয়ে আসছিলেন। মূল বেতন-ভাতা থেকে তিনি বঞ্চিত হন। তবে আদালতের রায়ের পর তার বকেয়া বেতন ভাতা দেওয়ার ব্যাপারটিও অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

আদালতের রায়ের পর বিভাগে যোগদান করার বিষয়ে অধ্যাপক রিয়াজুল হক পূর্বপশ্চিমকে বলেন, সত্য তুলে ধরার জন্য আপনাদেরকে (গণমাধ্যমকে) অশেষ ধন্যবাদ। গত ২৮ মে প্রধান বিচারপতির রায়ের পরদিনই আমি বিভাগে গিয়েছি। আশা করছি ঈদের পরে জুলাই মাস থেকে ক্লাশ নেওয়া শুরু করবো। আদালতের রায়ের ফলে আমি গত তিন মাসের (মার্চ, এপ্রিল ও মে) বকেয়া বেতনও পাব। গত ১১ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে আমার বকেয়া বেতন-ভাতাদি এবং প্রাপ্য আনুসঙ্গিক ভাতাদি প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কথা জানানো হয়। আশা করছি ঈদের আগেই পেয়ে যাব।

সুপ্রিম কোর্টে রিয়াজুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অধ্যাপক রিয়াজুল তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি সে সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার মধ্যে ছিলাম। তিনি আমাকে আইনী সহায়তা দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন। এমনকি তিনি আমার কাছ থেকে তার প্রাপ্য ফি পর্যন্ত নেননি। কোর্টে কোথায় কত ফি দিতে হয়েছে তা পর্যন্ত আমি জানি না।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া পূর্বপশ্চিমকে বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে অধ্যাপক ড. রিয়াজুল হককে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। একই সাথে কারণ উল্লেখ করা ছাড়া তাকে বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে ঢাবি উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

তিনি জানান, এ রুল জারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে করেন। ২৮ মে আপিল শুনানিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ঢাবি কর্তৃপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ফলে পুনরায় তিনি কাজে যোগ দান করতে পারবেন। 

বিনা ফিতে আইনী সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা প্রকাশ করার দরকার নেই। পূর্বপশ্চিমের পক্ষ থেকে ‘ভাল কাজ প্রকাশ হলে তো ভাল’ জানানো হলে এই আইনজীবী বলেন, ‘থাক প্রচারের প্রয়োজন নেই।’

অন্যদিকে অধ্যাপক রিয়াজ কাজে ফিরলেও এ ঘটনার পর অনেক শিক্ষকই এখন শ্রেণি কক্ষে জেন্ডার বিষায়ক বিস্তারিত পাঠ এড়িয়ে যান বা বাস্তবমুখী চিত্র ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অধ্যাপক রিয়াজুলের বহিস্কারাদেশ নিয়ে সেসময় ঢাবির জেন্ডার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এ ঘটনা দেশের জেন্ডার শিক্ষার জন্য হুমকি।

জুলাই থেকে শ্রেণি কক্ষে ফেরার পরে এই ঘটনা আপনার পাঠদানে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা? অর্থাৎ আগে আপনি যেভাবে পড়াতেন, সেই প্রক্রিয়া বা সেই বাস্তবধর্মী ডকুমেন্টে কোন পরীবর্তন আসবে কিনা? জানতে চাইলে অধ্যাপক রিয়াজ বলেন, এটা সত্যি যে এখন অনেক শিক্ষকই বাড়তি সতর্কতা বা ভয় নিয়ে ক্লাশে পাঠদান করেন। আগেও আমি অনুমোদিত সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান করেছি। আগামীতেও করবো। 

/ইউডি/