• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

ঈদের আগে পোশাকশিল্পে ফের শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা

প্রকাশ:  ১৭ জুন ২০১৭, ০২:৩০ | আপডেট : ১৭ জুন ২০১৭, ০২:৪১
বিশেষ প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতরের আগে বকেয়া ও বোনাস পরিশোধের জটিলতা নিয়ে পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসেন্তাষের আশঙ্কা  তৈরি হয়েছে। শতাধিক গার্মেন্টসের লক্ষাধিক শ্রমিক ঈদের আগে বেতন ও বোনাস না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন।কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগের আঞ্চলিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে এমন আশঙ্কা। এতে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে ৯৫টি পোশাক কারখানার নাম তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি।

দেশের সাড়ে চার হাজার গার্মেন্টে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। গত বছর রোজার ঈদে অন্তত ১০ শতাংশ গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতন ও বোনাস পাননি।পাওনা আদায়ের দাবিতে তারা নেমে এসেছিলেন রাজপথে। এবার তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ নজরদারিতে অনেক গার্মেন্ট ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধে তৎপর হয়েছে। তবুও শতাধিক গার্মেন্টে বেতন ও বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। 

এদিকে রমজান শুরুর আগেই শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন ২০ রোজার ভেতরে বকেয়া বেতন-বোনাস ও ভাতাসহ প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের আবাসন, চিকিৎসা ও রেশনিংয়ের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিও জানায়েছে শ্রমিকেরা।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর রোজার শুরুতে গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং সব পোশাক শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু মালিকরা ঈদের ছুটির পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বোনাস-বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের জিম্মি করে রাখেন। শেষ মুহূর্তে মালিকরা বোনাস না দিয়ে বকশিস হিসেবে কিছু টাকা আর আংশিক বেতন দিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। শ্রমিকদের তখন প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ থাকে না। তাছাড়া ওই সময় শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলেও আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে সরকার মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

সূত্র জানায়, লাখ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। অথচ জাতীয় বাজেটে তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি। সরকার একদিকে মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ দিয়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন দমন করছে। অন্যদিকে তাদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় কোনো বরাদ্দ রাখছে না। যা সামাজিক বৈষম্য আরও ত্বরান্বিত করছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাসির  জানান, শ্রমিকদের বেতন-বোনস নিয়ে আমরা চিন্তভাবনা করছি। আশা করছি ২০ রমজানের পর থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তাদের বেতন বোনাস সময়মত পরিশোধ করা হবে।

পোশাক শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি মোশারেফা মিশু  জানান, প্রতিবার গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমমন্ত্রণালয়ের শ্রমমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের যে প্রতিশ্রুতি দেন তা পূরণ করতে সক্ষম হন না। বেশিরভাগ সময় শ্রমিকেরা প্রতারিত হয়। তবে এবার আশা করি বিজিএমইএ‘র তত্ত্বাবধানে শ্রমিকদের পাওনা সময়মত পরিশোধ করতে পারবে মালিকেরা। তবে শ্রমিকদের বেতনের সমপরিমাণ টাকা বোনাস দেয়ার দাবি জানান তিনি।

কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগের আঞ্চলিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে ঈদের আগে বেতন বোনাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে এমন ৯৫টি গার্মেন্টকে চিহ্নিত কর হয়েছে। রাজধানী, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জস এসব গার্মেন্ট অবস্থিত। বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে ২৫ রোজার পরে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা রাজপথে নামতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ঈদের আগে  দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপে লেগে যায় তীব্র যানজট। এবারও ২৫ রোজার পর একই অবস্থা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় গার্মেন্ট শ্রমিকরা বেতন-বোনাস রাজপথে নেমে সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি দাড়াবে ভয়াবহ।
বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এরই মধ্যে  গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।