• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

কেকা ফেরদৌসি আপুর জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

প্রকাশ:  ১৮ জুন ২০১৭, ০০:৩৩ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৭, ০০:৪০
রুনা লেইস।।

যারা রান্না করতে পছন্দ করেন তাদের সকলের আইডল হিসেবে সিদ্দিকা কবীরের পর প্রথম পছন্দ হিসেবে যার নাম আসে তিনি কেকা ফেরদৌসি আপু। এর আগে তাঁর দেশ বিদেশের রান্না অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি যেভাবে কথা বলতে বলতে গল্প করতে করতে রান্নার মত একটা জটিল বিষয়কে অতি চমৎকার ভাবে সবার কাছে প্রজেন্ট করেন এবং অনায়াসে শেখান সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।

কিন্তু এবার তাঁর রান্না নিয়ে, স্পেশালি ক্রিয়েটিভ  নুডুলস রান্না নিয়ে অনেক মজাদার কান্ড ঘটে যাচ্ছে স্যোসাল মিডিয়ায়। ট্রল নিয়ে হাসতে হাসতে সবাই গড়াগড়ি। তাতে অবশ্য উনার প্রোগ্রাম থেমে নেই। উনার রান্না থামুক আমার মত আরো অনেকেই চান না।

ক্রিয়েটিভ নুডুলস রান্না নিয়ে যতই হাসাহাসি, কাশাকাশি হোক, নুডুলস অতি অাবশ্যকীয় ভাবে এই জেনারেশনের পছন্দের এবং পুষ্টিকর ওয়ান ডিশ আইটেম।  খাবার হিসেবে চাইনীজ, থাই, জাপানীজ যারা পছন্দ করেন তাদের কাছে তো অবশ্যই সারা বিশ্বের অনেক মানুষের কাছর নুডুলস সবসময় প্রিয়। এর কারণ নুডুলসের পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা,সংরক্ষণ সুবিধা সর্বোপরি রান্নার সময়টা কম লাগা।  কাজেই কেকা ফেরদৌসি অাপুর নুডুলস নিয়ে সময়পোযোগি এক্সপেরিমেন্টাল রান্না অনেকের উপকারে আসছে। বিশেষ করে সেই সব মেয়েদের জন্য তো অবশ্যই যারা ভালো করে রান্না জানেনা এবং যাদেরকে নিত্ত নতুন ডিশ রান্না করার জন্য কতরকমভাবে পেরেশান হতে হয়। 

কেকা ফেরদৌসি আপু কি করছেন? এই নুডুলসকে বাঙ্গালীর উপযোগী ফ্লেভার ও রেসিপিতে ট্রাই করছেন। করছেন বঙ্গীয় নানার মশলা ও রন্ধন পদ্ধতির গুণ মিশিয়ে মজাদার কিছু উদ্ভাবন করার চেষ্টা। সেই প্রচেষ্টা নিশ্চই খারাপ কিছু না।

অামি আম্মাকে দেখেছি নুডুলস দিয়ে দুধ সেমাই রান্না করতে। আমি নিজেও অনেক আগে নুডুলস দিয়ে কিছু মজার রান্না শিখেছিলাম জিটিভিতে সঞ্জীব কাপুরের "খানা খাজানা" রান্নার অনুষ্ঠানে। আমি নিজে নুডুলস খেতে পছন্দ করতাম, এখনো করি, আমাদের বাসার সবাই কমবেশি পছন্দ করে। কাজেই কেকা ফেরদৌসি আপু এবং তাঁর নুডুলস রান্নার বিষয়ে অতিকথন আমি পছন্দ করছি না, এবং তাঁর এই বিশেষ রান্নার প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ আজকের ইফতারীতে নুডুলস রান্না করেছি। 

বাঙ্গালী রমণীর প্রধানতম গুণ হলো রন্ধন পারদর্শিতা। যার হাতের রান্নার স্বাদ যত উপাদেয় সে-ই তত বড় সুগৃহিনী।

রান্না ভালো তো আর চেহারা দেখে হয় না, সাজসজ্জায়ও হয় না। জিভকে যা তুষ্ট করে, দেহকে যা পুষ্ট করে সেইরকম রান্না যে রাঁধতে জানে সেই তো পাকা রাঁধুনী বা রান্ধুনী। আর ওই রন্ধন গুণের কারণেই উদরপূর্তি এবং রসনার পরিতৃপ্তি। রসনা শব্দটা লিখতে মনে এলো প্রথম মুসলিম নারীশিক্ষার আলোকবরর্তিকা মহিয়সী বেগম রোকেয়া বাঙ্গালীর রান্না নিয়ে "রসনা বিলাস " নামক একটি উপন্যাস লিখেছিলেন।

নারীরা আর যা খুশী করুক রন্ধনে পারদর্শিতা না থাকলে সে নারীর জীবনই বৃথা হয়ে যায়। এ যেন ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাস। 
মানবদেহের গঠনে আদি যোগী ঋষিরা যে সাতটি চক্রে বিভাজন করেছেন তারমধ্যে তৃতীয় চক্রটি হলো নাড়ি চক্র বা সোলার প্ল্যাক্সাস চক্র বা মনিপুর চক্র। এটি মূলত নাভি থেকে হৃদয়ের নিম্নস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত অর্থাৎ  মনিপুর চক্রের নীচে স্বাধীষ্ঠান চ্ক্র এবং উপরে আনাহাত চক্র। এখানেই দেহের খাদ্যের মূল পরিপাক ক্রিয়া কর্ম সংগঠিত হয় কারণ অগ্রাশয় পিত্তাশয় যকৃত  পাকস্থলী প্লিহার মত গুরুত্ববহ গ্রন্থি সমূহ এখানে অবস্থিত। তাই একে দেহের ব্রহ্মস্থানও বলা হয়ে থাকে। উদরের তৃপ্তি ও সঠিক পুষ্টি লাভ মানেই দেহের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ ঘটা। আর আমরা কম বেশি সকলেই জানি সঠিক ও পরিচ্ছন্নভাবে পাক করা বা রাঁধা খাবারটি একই সাথে রসনার তৃপ্তিও দেয় এবং দেহের পুষ্টিসাধন করে।
এ ক্ষেত্রে কেকা ফেরদৌসির মত একজন গুণবতী রাঁধুনীই চুড়ান্তভাবে সফলকাম। আমি আশা করি তাঁকে নিয়ে যারা মজাদার কিছু লিখছে তারাও একসময় তাঁর রেসেপি গুলো ট্রাই করবে এবং খেয়ে মুগ্ধ ও তৃপ্ত হবে।

লেখক: চিত্রশিল্পী