• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

’বাংলাদেশের পতাকা উড়েছে কার্সটেঞ্জ পিরামিডের পর্বতের চূড়ায়’

প্রকাশ:  ২০ জুন ২০১৭, ০২:১৪ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৭, ১১:০৯
মুসা ইব্রাহিম

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী  পর্বতারোহী  মুসা ইব্রাহিত তার সাম্প্রতিক অভিযান প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিচে তা তুলে ধরা হলো।  

"সবাইকে শুভেচ্ছা। বাংলাদেশের পতাকা উড়েছে কার্সটেঞ্জ পিরামিডের পর্বতের চূড়ায়। আমি এই আনন্দ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।

তার আগে, নীলসাগর গ্রুপ মাউন্ট কার্সটেন্জ পিরামিড অভিযান সফল করে বেস ক্যাম্পে ফিরে আমরা অভিযাত্রীরা - Satyarup Siddhanta, Nandita Cn এবং আমি Musa Ibrahim - যেভাবে এক বিশেষ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম, তাতে দেশবাসী যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাতে এই আনন্দ আরও বেড়ে গেছে বহুগুণে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Mohammed Shahriar Alam ভাই, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী Zunaid Ahmed Palak ভাই, ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আজমল কবির, বেসিসে'র সাবেক প্রেসিডেন্ট Shameem Ahsan ভাই, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সুরেশ রেড্ডিপ্রমুখ সহ যারা সহায়তা করেছেন, তাদের সবার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।

নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান সিংহহৃদয় Md Ahsan Habib Lalin ভাইয়ের কথা আলাদা করে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, তিনি না হলে এই অভিযানে আসা হতো না। ধন্যবাদ, Arman Habib ভাই।

কৃতজ্ঞতা জানাই, সকল বন্ধু, ভাই, বোন, শুভানুধ্যায়ীকে, যারা এমন বিপদে সহযোগিতা, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। আপনাদের জন্যই জীবনটা এতো সুন্দর....

সেই সঙ্গে আরেকটা ব্যাপার জানিয়ে রাখি, তিমিকায় পা রাখার কিছুক্ষণ পরই জানতে পেরেছি বাংলাদেশের রাঙামাটিসহ পার্বত্য জেলাগুলোয় মানুষের প্রাণহানির খবর। যে জায়গা থেকে আমার পাহাড়যাত্রা শুরু, সেই মানুষগুলোর কষ্ট আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে। আমি সবাইকে ওয়াদা করছি, দেশে ফিরে আমি সেই মানুষগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াবো এবং আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো...।

অপর এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন- 

"মাউন্ট কার্সটেঞ্জ পিরামিড অভিযানে এসে এয়ারলাইন কোম্পানির অনেক খুঁটিনাটি বিষয় জানলাম।
আমাদের কার্সটেঞ্জ পিরামিড অভিযানের আয়োজক প্রতিষ্ঠান মানাডো এক্সপেডিশনের ফ্র্যাঙ্কি কোয়াসের ভাতিজা এবং আমাদের গাইড লরেন কোয়াসের মতে, আমাদেরকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার কোম্পানির পাইলট আমাদেরকে বেস ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা বাবদ ৯৩০০ ইউএস ডলার চায়। ফ্র্যাঙ্কি সরাসরি পাইলটের সঙ্গে কথা বলে এই সমঝোতা করেছে। পাইলটের মতে, তারা রবিবার গিয়ে ফিরে এসেছে এবং সোমবার দু'বার উড়লেও প্রথমবার বেস ক্যাম্প থেকে আমাদের না নিয়ে তিমিকা ফিরে আসাটাকে এর মধ্যে রাখতে চাইছেন না। অর্থাৎ রবিবার এবং সোমবারের একবারের উড়ান-ঘণ্টা হিসাবে করে পাইলট চাইছেন ৯৩০০ ডলার।
আমরা - আমি, Satyarup Siddhanta এবং Nandita Cn এই টাকাটা দশ মিনিটের মধ্যে দিয়ে পুরো বিষয়টার এখানেই সমাপ্তি টানতে চাই।
কিন্তু হেলিকপ্টার কোম্পানির এজেন্ট জ্যাকব চাইছেন ১১ হাজার ডলার। এটাই তার মুনাফা। যদিও লরেন জানিয়েছে, ওই ৯৩০০ ডলারের মধ্যেই এজেন্ট ফি ৫-৭% রয়েছে। জ্যাকবের সঙ্গে যখন কথা হলো, সে জানিয়েছে যে ১১ হাজার ডলার ছাড়া সে আমাদের পাসপোর্ট দিবে না।
বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব Mohammed Shahriar Alam,
ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মেজর জেনারেল আজমল কবির, ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতবাসের কর্মকর্তা অণির্বান ভাই, সোহেলী আপা,ইন্দোনেশিয়ার ফরেন সার্ভিস ডিরেক্টর, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় দূতাবাসসহ ঢাকায় অনেকেই এটা সুরাহা করার জন্য চেষ্টা করে চলেছেন।
এখন ব্যাপার হলো, ভালোমন্দ সব জায়গাতেই থাকে। আর আমরা কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চাই না। আমরা চাই জ্যাকবের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আমরা সবাই সহিসালামতে দেশে ফিরি।
মাউন্ট কার্সটেন্জ পিরামিডে আমাদের যে আরোহণের অনন্যসুন্দর অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা আমরা এই একটা মানুষের জন্য তিক্ত করতে চাইনা। ধন্যবাদ Franky Kowaas, লরেন কোয়াস। কৃতজ্ঞতা সবার কাছে।"