• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছি!

প্রকাশ:  ১১ জুন ২০১৭, ১৫:২৯
নাসরীন রুমু।।

হাতির ঝিলে হাতি নেই, কলা বাগানে কলা নেই, কমলার জুসে কমলা নেই কিংবা গোয়াল আছে তো গরু নেই।

উপরের কথা গুলো আমার না। নিউজ টোয়েন্টি ফোরের এক রিপোর্টারের। গত কয়েক দিন আগে যাত্রাবাডিতে কমলার জুস তৈরির কারখানার অনুসন্ধানে গিয়ে দেখে মোটা দানার চিনির সাথে কাপড়ের রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে কমলার জুস। যেখানে কমলার রস তো দুরের কথা কমলার খোসাও পাওয়া যায়নি।

এরপর যমুনা নিউজের প্রতিবেদন প্রকাশ। “গরুর “খোঁজে। বাজারে প্যাকেটজাত যে সমস্ত তরল দুধ পাওয়া যায় , সেই দুধ কোথা হতে আসে সেটা খোঁজ করতে গিয়ে দেখে বিভিন্ন জায়গায় গরুবিহীন গোয়াল ঘর। তাও সেটা সত্যিকার অর্থে গোয়াল ঘর না , পুরানো, ভাঙাচোরা , পরিত্যক্ত বাড়ি। সেখানে অদক্ষ মানুষ দিয়ে তৈরি হয় গরুর দুধ। শ্যাম্পুর সাথে বিভিন্ন রসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তৈরি হয় খাঁটি মানের গরুর দুধ। যা শিশুদের প্রধান খাদ্য।

এবার আসা যাক, আমাদের দেশের নামকরা ব্র্যান্ড “প্রাণ” প্রসঙ্গে। প্রাণের ম্যাংগো জুস কিংবা আমের আচারের খোঁজ করতে গিয়ে সন্ধান মিলে বিষাক্ত ফরমালিন যুক্ত আধা কাঁচাপাকা, পঁচা আম অসাস্থকর ড্রামে জমিয়ে রেখেছে, তা দিয়ে বানানো হচ্ছে বাচ্চাদের জুস এবং আচার ।যা থেকে ভয়ঙ্কর রোগ হতে পারে, শুধু তাই নয়, নিশ্চিত হবে। অথচ টিভি বিজ্ঞাপনে এদের জুড়ি নেই।

বাচ্চাদের সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য বিভিন্ন প্যাকেটজাত চিপস। বাচ্চাদের জন্য খুবই লোভনীয় খাদ্য। অথচ এখানকার অবস্থা আরো শোচনীয়। নোঙরা , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এইসব খাবার। খাদ্যমান বলতে একেবারে শূন্য।

উপরের কয়েকটি খাবারে যে ভেজাল তা কিন্তু নয়, আমাদের চার পাশে যা কিছু খাদ্য তালিকায় আছে তার অধিকাংশই ভেজাল মিশ্রিত কিংবা ফরমালিন যুক্ত বিষাক্ত খাবার। তারপরও আমরা বেঁচে আছি সৃষ্টি কর্তার অসীম কৃপায়।

আমরা আমাদের অজান্তে প্রতিদিন বাচ্চাদের হাতে তুলে দিচ্ছি এই বিষাক্ত খাবার যা সুযোগ করে দিচ্ছি ভবিষ্যতের কোনো কঠিন রোগের আহ্বান। যা আমাদের কারো কাম্য নয়। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন গুলো প্রচার করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে কিনা জানি না। আদৌ কি কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে ? না ভাঙার বা কারণ কি?? তবে জেগে জেগে ঘুমালে সে ঘুম কখনো ভাঙে না।

আমাদের দেশে পোশাকি বিচার সবসময় চর্চা করা হয়। বিশেষ করে মেয়েদের বেলায়। একটা মেয়ে কি পোশাক পড়ল সেটার উপর মেয়েটার ভাল-মন্দ বিচার করা হয়। যেনো পোশাক নারীর ভূষণ। যদি তা হতো তাহলে পুরুষদের পোশাক, সেই আদি পোশাকই থাকত কোনো পরিবর্তন হত না। আবহাওয়া, জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে এক এক দেশের পোশাক এক এক রকম । মরুভূমি এলাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এক ধরনের পোশাক, শীত প্রধান দেশে এক ধরনের পোশাক , গ্রীষ্মকালীন দেশের পোশাক আরেক রকম কিংবা নাতিশীতোষ্ণ এলাকার পোশাক এক এক রকম। অথচ আমাদের দেশে পোশাক নিয়ে যত ঝামেলা। এই পোশাকি বিচারিকরণ থেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেত্রী পর্যন্ত কেউ বাদ পড়েনি। বাংলার সৃষ্টির পর থেকে বঙ্গ ললনার পছন্দের পোশাক বা জাতীয় পোশাক বলতে শাড়ি আর খোঁপায় এক গুচ্ছ বেলি কিংবা কদম ফুল। নতুন বউ মানে লাল টুকটুকে শাড়ি। যা বাঙালি রমণীকে অসাধারণ করে তোলে। কালের বিবর্তনে পোশাকে এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। কেউ সেলোয়ার কামিজ, কেউ জিন্স আর টপস কিংবা কেউ পড়ছেন বোরখা অথবা পছন্দনীয় পোশাকের সাথে হিজাব। এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তি বিশেষ অনুযায়ী পোশাক। যে যেটাতে সাচ্ছন্দ বোধ করে সেটা পরিধান করার অধিকার প্রত্যেক ব্যাক্তির আছে। তবে অবশ্যই মার্জিত পোশাক যেটা নারী পুরুষ সবার জন্য কাম্য।

একজন মানুষ কখনও শতভাগ ভালো হতে পারে না। শতভাগ ভালো হতে হলে তাকে হয়তো ফেরেশতা নতুবা শয়তান হতে হবে। কিন্তু “ফেরেশতা” তো নূরের তৈরি, যা রক্তে মাংসে গড়া মানুষের পক্ষে সম্ভব না আর শয়তান একটা ধোঁয়া বিশেষ যা মানুষের রক্তে মিশে গিয়ে মানুষকে অনিষ্ট পথে পরিচালিত করে। ভালোমন্দ নিয়ে একজন মানুষ । যার মাঝে যত ভালো গুন সে তত ভালো মানুষ আর যার মাঝে যত মন্দের পরিমাণ বেশি সে ততটা মন্দ লোক। অর্থাৎ কর্মের উপর ভিত্তি করে একজন মানুষকে বিচার করা যায়।সব ধর্মেই বলা হয়েছে , তোমরা ভাল কর্ম করো। তোমাদের প্রত্যেকের কর্মের ফল ভোগ করতে হবে।ইসলাম ধর্ম মতে প্রতিটি কর্মের জন্য আখিরাতে হিসেব দিতে হবে, অন্য কোনো ধর্মে মতে দুনিয়াতে তার কৃত কর্মের ফল ভোগ করে যেতে হবে। অর্থাৎ সব ধর্মের মূল কথা কর্মই ধর্ম। এখানে নারী পুরুষ বলে বিভেদ নেই, সবাইকে একই কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হবে। শুধু পোশাকের জন্য না কর্মের জন্য হিসেব কষতে হবে।।

তাহলে আমাদের দেশে আমরা প্রতি নিয়ত যে ভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছি, আমাদের সাথে যে ভাবে প্রতিনিয়ত অনিয়ম ,অনৈতিক, দুর্নীতি হচছে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম , ভবিষ্যত প্রজন্ম অনেক বড় বিপদের দিকে এগুচ্ছি। যার ফলাফল অনেক কঠিন কালো মেঘ। সব অন্ধকার,যেখানে আলোর কোনো দেখা মিলবে না। এবার বলুন এই ভন্ড , প্রতারক, দুর্নীতিবাজ গুলো কে আপনি কোন দলে ফেলবেন? এরা কি আস্তিকের দলে?

এরা তো আমাদের হাতে প্রতিনিয়ত তুলে দিচ্ছে বিষ ,যা থেকে আমাদের শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না। পোশাক কখনও একটা মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট হতে পারে না। পোশাক একটা মানুষের ব্যক্তিগত অভিরুচি। কারন, ধর্ষক, প্রতারক, দুর্নীতিবাজ সবাই ভাল পোশাক পড়ে। আর না, এই পোশাকি বিচার।