• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

চাঁদপুরে যুবকের ওপর পুলিশের নির্মম নির্যাতন

প্রকাশ:  ১৯ জুন ২০১৭, ১৫:৫৭ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৭, ১৬:২৯
চাঁদপুর প্রতিনিধি।।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নির্মম নির্যাতনের শিকার সাহাদাত হোসেন নামের এক যুবকের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

শনিবার বিকেলে ভর্তি হওয়া সাহাদাত বর্তমানে আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে কারারক্ষীর প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা এলাকায় অবস্থিত বাসায় যাওয়ার সময় পথিমধ্যে গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের সামনে থেকে সাহাদাতকে ডিবি পুলিশ আটক করে।

সাহাদাত চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমানে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য। সে পেশায় ব্যবসায়ী। সাহাদাত চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর এলাকার সিরাজ হাওলাদারের ছেলে।

সাহাদাতের স্ত্রী আসমা নূর বলেন, এই ধরনের নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। মানুষ মানুষের ওপর এমন নির্যাতন করতে পারে না। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই এবং দোষী পুলিশের শাস্তি চাই। 

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ জানান, সাহাদাত পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ফেইসবুকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবদুল হাই লিখেছেন, সমবেদনা ও সহমর্মিতা থাকলো।

দিদার হোসাইন লিখেছেন, সঠিক বিচার হওয়া দরকার. তা না হলে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা থাকবে না। তাই মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় সঠিক তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিচার করবেন...।

ডিবি’র ওসি মোস্তফা কামাল জানান, সাহাদাতের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা রয়েছে। মামলার বাদী গোবিন্দিয়া গ্রামের মজিবুর রহমান। এ মামলা ডিবির কাছে আসলে তাকে ডিবি পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। 

ডিবি’র ওসি সাহাদাতের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। সাহাদাত এখন হাসপাতালে ভর্তি এবং তার শারীরিক নির্যাতনের বিবরণ তাকে বলা হলে তিনি বলেন, এটি হয়তো অন্য কোনোভাবে হয়েছে, তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। 

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। বিষয়টি এসপি স্যারের নজরে আসায় তিনি আমাকে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি বিষয়টি দেখছি।

সাহাদাতের পিতা সিরাজ হাওলাদার জানান, নির্দয়ভাবে সাহাদাতকে পিটিয়ে তার পুরো পাছা কালো নীলা-ফুলা ও বিবর্ণ করে ফেলেছে এবং তার বাম হাতের কনুইর উপরিভাগও কালো হয়ে গেছে। এমন অমানুষিক নির্যাতনের পরও তাকে চিকিৎসা না করিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার তাকে আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

সাহাদাত জানায়, আমাকে এসপি স্যারের কথা বলে ডিবি অফিসে নেয়া হলেও আমি সেখানে গিয়ে এসপি স্যারকে দেখিনি। পরে ডিবির ওসি মোস্তফা কামাল নিজে এসে তাকে বেদম মারধর শুরু করে। 

সাহাদাত জানায়, তাকে মাটিতে উপুড় করে শুইয়ে একজন ডিবি পুলিশ তার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে আর ডিবির ওসি তার পাছায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। লাঠি ভেঙ্গে যাওয়ার পর হকিস্টিক দিয়ে তাকে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায়ই পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠায়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সাহাদাতের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার গোবিন্দিয়া এলাকায় ১.৮১ একর পরিমাণ জলাশয় নিয়ে একই এলাকার জহির শেখ ও মজিব শেখ গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

 এ নিয়ে মজিব শেখ চাঁদপুর সদর মডেল থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করে। এতে শাহাদাতসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে শাহাদাতকে আটক করে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভাপতি নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, ডিবি’র ওসি মোস্তফা কামাল যুবলীগ নেতা শাহাদাতের উপর যেই অত্যাচার করেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

 তিনি বলেন, এর যদি সঠিক বিচার না হয়, তাহলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ যা যা করা দরকার, তাই করবে। অবিলম্বে ডিবি’র ওসি মোস্তফা কামালকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

জেআই/