• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

নকল প্রসাধনীতে রাজশাহীর বাজার সয়লাব

প্রকাশ:  ১৯ জুন ২০১৭, ১৬:৪৬
রাজশাহী প্রতিনিধি ।।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জেলার বাজারগুলোতে নকল প্রসাধনে  ছেঁয়ে গেছে। এক শ্রেণির প্রতারক রাজশাহী বিভিন্ন স্থানে এসব নকল প্রসাধনীর কোম্পানির মাধ্যমে এসব প্রসাধনী রাজশাহী ও এর আশেপাশের এলাকায় বিক্রি করছেন।

সেখান থেকে এগুলো ছড়িয়ে পড়ছে পাড়া-মহল্লার দোকান এবং গ্রাম ও মফস্বলের বাজারে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর সব নকল প্রসাধনী। আসলের মতো দেখতে এ প্রসাধনীগুলোর দাম আসলের সমান।

নকল প্রসাধনী কিনে ধনী, মধ্যবিত্ত, গরিব সব শ্রেণির ক্রেতাই ঠকছেন। বিদেশি সব নামিদামি কোম্পানির পণ্যগুলোর নকল বিক্রি হচ্ছে বাজারের দোকানগুলোতেও। এসব নকল পণ্য কিনে ক্রেতা শুধু প্রতারিতই হচ্ছেন না, চর্ম ও ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের কয়েকটি দোকানের কর্মচারীরা জানান, রাজধানীসহ কয়েক জায়গায় নকল প্রসাধনী পণ্য তৈরি ও বিক্রির কারখানা থেকে এসব পণ্য আসে। সেগুলো দোকানে বসে প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন পাইকারি বিক্রি করা হয়। শুধু তাই না খুচরা বিক্রিও করা হয়ে থাকে। তবে এসব কারখানা কোথায় জানতে চাইলে ওই কর্মচারি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রোববার রাতে নগরীর আরডিএ মার্কেটের মের্সাস খন্দকার ব্রাদার্স নামে একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, একটি কার্টুনে টিউব ও অন্য কার্টুনে প্যাকেট খোলা অবস্থায় রাখা আছে ফেয়ার হোয়াইট ক্রিম। কয়েকজন কর্মচারী সেগুলো নিয়ে প্যাকেট করছে।

দোকানে বসে প্যাকেট করার বিষয়টি জানতে চাইলে এক কর্মচারী জানান, কোম্পানি থেকেই আলাদা আসে। দোকানে বসেই এসব প্যাকেট করতে হয়। এরপরেই কর্মচারীরা বেশিকিছু না বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আসল প্রসাধনীগুলো প্যাকেট থেকে আলাদা করা হয়। এরপরে নকল প্রসাধনী আসল প্যাকেটে মোড়ানো হয়। এরপরে সেগুলো বাজারজাত করা হয়।

প্রসাধনীতে ক্রিমের মধ্যে নিভিয়া, ডাভ, লাক্স, মাস্ক, অ্যাকুয়া মেরিল লোশন, ফেডআউট ক্রিম, ওলে ব্র্যান্ডের ক্রিম, গার্নিয়ার ও জার্জিনস লোশনের নামিদামী পণ্যগুলো নকল বিক্রি হচ্ছে। শ্যাম্পুর মধ্যে হেড অ্যান্ড শোলডার, ল’রিয়েল, রেভলন, পয়জন, প্যান্টিন ও বিদেশি সানসিল্ক নকল পাওয়া যাচ্ছে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. দায়েম উদ্দিন জানান, ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের সাধারণ লাবণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ব্যবহারে প্রাথমিকভাবে ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট ডারমাটাইসিস হয়। এতে চামড়া লাল হয়ে যায়, যা পরবর্তী হসপড অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন তৈরি করে। ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে স্কিন ক্যান্সার হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি ত্বকে দানা, হাঁপানি, মাথাব্যথা ও চোখ জ্বালাপোড়াসহ অন্যান্য রোগের উপদ্রব হতে পারে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেছেন, বিষয়টি আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। নকল প্রসাধনীর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানানো হয়েছে। তবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি আরো জানান- বিএসটিআই, জেলা প্রশাসক ও ক্যাব এ বিষয়ে মনিটরিং করে থাকে। তবে এর ব্যাপ্তি আরো বাড়াতে হবে।

এসএম