• বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

কোচের যৌন হয়রানির শিকার প্রমীলা ক্রিকেটার

প্রকাশ:  ১৯ জুন ২০১৭, ১৭:১৩
দিনাজপুর সংবাদদাতা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দিনাজপুর জেলা ক্রিকেট কোচ ও দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য আবু সামাদ মিঠুর বিরুদ্ধে নারী ক্রিকেটারদেরকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

যৌন হয়রানির শিকার মেয়ের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তার বাবা এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম মিঠুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি-না সে সম্পর্কে কিছুই জানাননি জেলা প্রশাসক। যৌন হয়রানির শিকার নারী ক্রিকেটারের বাবা লিখিত অভিযোগে বলেন, তার মেয়ে দিনাজপুর বড় মাঠে অন্যদের সঙ্গে কোচ আবু সামাদ মিঠুর কাছে ক্রিকেট অনুশীলন করে আসছেন। গত ১ জুন অনুশীলন করার সময় বলের আঘাতে তার মেয়ে আহত হয়।

তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কোচ মিঠু স্পোর্টস ভিলেজে নিয়ে যান। তারপর অন্যদের মাঠে পাঠিয়ে দিয়ে মিঠু চিকিৎসার নামে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে মিঠু তাকে ছেড়ে দিলেও ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন।

এর আগেও নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিঠু একই আচরণ করেছেন। তারা ভয়ে ও লজ্জায় কেউ মুখ খোলেননি বলেও জানান ওই নারী ক্রিকেটারের বাবা।ভিকটিমের বাবা জানান, তার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে এবং বয়স মাত্র ১৫ বছর। কোচ মিঠু তাদেরকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নির্যাতিতা ওই প্রমীলা ক্রিকেটারের বাবা আরো জানান, ঘটনার পর তার মেয়ের মানসিক অবস্থা দেখে দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দকে তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। কিন্তু, মিঠুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো তাকেই গালিগালাজ করেন তারা। বিষয়টি তিনি ক্রীড়াঙ্গনের অনেক মানুষকে জানিয়েও কাজ হয়নি।

এই অবস্থায় অসহায় বাবা যৌন হয়রানির কবলে পড়া কিশোরী মেয়েদের রক্ষার আবেদন জানান। দিনাজপুর ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি জানান, কোচ মিঠুর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অনেক আগে থেকেই রয়েছে। বিভিন্ন নারী ক্রিকেটারের সঙ্গে সে একই আচরণ করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে বার বার অভিযোগ করা হলেও ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দরা অজ্ঞাত কারণে মিঠুকেই প্রশ্রয় দিয়ে এসেছেন। 

তবে মিঠু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ‘এটি আমার ও আমার ক্রিকেট একাডেমি ‘প্রচেষ্টা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের’ বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র।’

এদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি কানিজ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফা বেগম এক যৌথ বিবৃতিতে আবু সামাদ মিঠুর বিরুদ্ধে নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

মানবিক মূল্যবোধের এই অবক্ষয় রোধ করতে মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেছেন।